বৃহস্পতিবার, ১৬ Jul ২০২৬, ০২:২৫ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : প্রভাষক থেকে প্রফেসর পদোন্নতিতে প্রয়োজন হয় হাতেগোনা কয়েকটি গবেষণা। কিন্তু পদোন্নতি পরবর্তী গবেষণায় বাধ্যবাধকতা নেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের। অভিযোগ- পদোন্নতি পার হলেই শিক্ষকরা বন্ধ করে দেন গবেষণা। যার প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রমে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবীণদের গবেষণা অনীহায় পথ হারাচ্ছেন নবীন গবেষকরাও। আরও অভিযোগ আছে- গবেষণা ছাড়াই রাবির কতিপয় শিক্ষক দলীয় বিবেচনায় অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।
২০১৭-১৮ সেশনের বার্ষিক প্রতিবেদন বলছে, এই সেশনে ৭০ শতাংশের বেশি অধ্যাপক গবেষণা করেননি। এই সেশনে মাত্র ১৩৪ শিক্ষকের গবেষণা প্রবন্ধ, বই প্রকাশিত হয়েছে। আলোচ্য বার্ষিক প্রতিবেদনে কলা অনুষদের ৮৯ অধ্যাপকের মধ্যে ২৩, আইন অনুষদের ১০ অধ্যাপকের এক, বিজ্ঞান অনুষদের ১১৮ অধ্যাপকের ৫২, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ৫৪ অধ্যাপকের ২, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ৫৫ অধ্যাপকের ৯, জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের ৭৬ অধ্যাপকের ২৪, কৃষি অনুষদের ৪৩ অধ্যাপকের ১৩, প্রকৌশল অনুষদের ৪২ অধ্যাপকের ১২ জনের গবেষণা পাওয়া যায়। তবে চারুকলা অনুষদের কোনো অধ্যাপকের গবেষণা পাওয়া যায়নি।
অধ্যাপকদের গবেষণা বিমুখতার প্রভাব সম্পর্কে স্কপাসের জরিপে নির্বাচিত সেরা শিক্ষক রাবির পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, অধ্যাপকরা গবেষণা করছেন না এটা ঢালাওভাবে বলা যাবে না। তবে এটা ঠিক যে অধ্যাপকদের একটি বড় অংশ গবেষণা করেন না। মূলত পদোন্নতি ছাড়া গবেষণার প্রয়োজন হয় না। পদোন্নতি পরবর্তী গবেষণায় কোনো নীতিমালাও নেই।
তিনি বলেন, গবেষণার বাধ্যবাধকতা না থাকার ক্ষতি দুটো। প্রথমত পদোন্নতির পর কিছু প্রবীণ গবেষক, গবেষণা ছেড়ে দিচ্ছেন। দ্বিতীয়ত নতুন গবেষকরা প্রবীণ গবেষকদের দেখে শিখছেন গবেষণা না করলেও সমস্যা হয় না।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতিতে গবেষণার প্রয়োজন নেই। তবে সহকারী থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদোন্নতিতে ৩ বছর সহকারী অধ্যাপক পদে শিক্ষকতাসহ ৭ বছরের শিক্ষকতা এবং একের অধিক গবেষণা বা গবেষণা পুস্তক প্রকাশনা প্রয়োজন। এছাড়া সহযোগী থেকে পূর্ণ অধ্যাপক পদোন্নতিতেও একের অধিক গবেষণা এবং ৫ বছর সহযোগী অধ্যাপকসহ ১২ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকলেই অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাবেন। অর্থাৎ প্রভাষক থেকে প্রফেসর পদোন্নতিতে সর্বনিম্ন চারটি গবেষণার প্রয়োজন হয়।
রাবির উদ্ভিদ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. মনজুর হোসেন বলেন, গবেষণা টেকনোলজি উদ্ভাবন করে। টেকনোলজি অর্থনৈতিক উন্নতি তরান্বিত করে দেশকে এগিয়ে নেয়। আমাদের গবেষকদের এই মাইন্ড সেটআপ তৈরি হয়নি। তারা সহজ রাস্তা ধরেছে প্রফেসরশীপ পেতে হবে। অনুসন্ধিৎসু মন না থাকায় পদোন্নতি শেষ হলেই তারা গবেষণার প্রয়োজন বোধ করেন না। এ বিষয়গুলো প্রফেসর পদটাকেই নষ্ট করে দিয়েছে। এখন কাউকে লিডিং নিতে হবে এবং গবেষকদের প্রেশারাইজ করতে হবে।
নগরকন্ঠ.কম/এআর